রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:১৮ অপরাহ্ন

আজ মহান স্বাধীনতা দিবস

আজ ৫৫ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা সারাদেশে গণহত্যা চালায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক॥ আজ ৫৫ তম মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। তারা সারাদেশে গণহত্যা চালায়। পাকিস্তানিরা তাদের নীলনকশার নাম দেয় ‘অপারেশন সার্চলাইট’।

দীর্ঘ পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে ১৯৭১ সালের এই দিনে বিশ্বের মাঝে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের লক্ষ্যে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন স্বাধীনতার মহান স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তিনি সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ ও চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সঙ্গে বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ধানমন্ডির বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে হানাদার বাহিনী। এরপর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জিত হয়।

২৫ মার্চ মধ্যরাতে নিরস্ত্র জনগণের ওপর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর হামলায় বেঘোরে প্রাণ হারায় অসংখ্য মানুষ। বাঙালির এই দুঃসময়ে জীবনবাজি রেখে প্রবল বিক্রমে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন মেজর জিয়াউর রহমান। চট্টগ্রামে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে প্রচারিত তার স্বাধীনতার ঘোষণায় উদ্বেলিত জনগণ সাহসের সঙ্গে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি তিনি । ‘উই রিভোল্ট’ হুংকার দিয়ে নিজেও নেতৃত্ব দেন সশস্ত্র সংগ্রামে। জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা ২৬, ২৭ এবং ২৮ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রসহ দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়।

নয় মাসের যুদ্ধ দখলদার বাহিনীর হাত থেকে স্বাধীন দেশকে মুক্ত করার। এই উদ্দেশ্য সফল হয়েছে অনেক অশ্রু, অনেক রক্তের বিনিময়ে। ইতিহাস গড়ে ওঠে একদিকে দেশপ্রেম ও আত্মত্যাগের, অন্যদিকে নিষ্ঠুর অত্যাচার ও বর্বরতার। প্রতিটি স্বাধীনতা দিবসে আমাদের স্মরণ করতে হবে এই ইতিহাস। শহিদদের স্মরণে আমরা যত আয়োজনই করি না কেন, যুদ্ধক্ষেত্রে নিজের জীবন বাজি রেখে লড়াই করার ঋণ শোধ হবে না কিছুতেই। আজ আমাদের এই স্বাধীন চলন-বলন যাদের অবদানে, তাদের পথটা কিন্তু মোটেই সুগম ছিল না। স্বাধীনতা দিবস বাংলাদেশের মানুষের কাছে মুক্তির প্রতিজ্ঞায় উদ্দীপ্ত হওয়ার ইতিহাস। মুক্তিযুদ্ধে আত্মদানকারী শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন ও তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নের অঙ্গীকারের মধ্য দিয়ে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস পালন করে জাতি। যাদের রক্তের বিনিময়ে আমাদের আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ, যাদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন রাষ্ট্র, সেই সাথে সকল মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনা মা-বোনের প্রতি জানাই গভীর শ্রদ্ধা। কামনা করি জয় হোক যুগে-যুগে বাংলার মেহনতি মানুষের, বারবার ফিরে আসুক আমাদের মহান স্বাধীনতা দিবস।দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে একটি ভূখন্ডের, যার নাম বাংলাদেশ।

মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে বর্ণিল কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। দিনটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বাণী দিয়েছেন। এদিন ঢাকাসহ সারাদেশে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবস উদযাপন শুরু হয়। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্ঠা সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। এরপর বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন। বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনীতিক, বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের জনগণ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন। দিবসটি উপলক্ষে সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি ভবনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হবে। দিবসটি উপলক্ষে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের মধ্যে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

সংবাদটি শেয়ার করুন

© All rights reserved © 2024  Ekusharkantho.com
Technical Helped by Curlhost.com